বাংলার ভোট উৎসব থেকে কি সন্ন্যাস নিলেন কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি প্রশ্ন অনেকের মধ্যে।
পিয়া গুপ্তা
আগামী ২৬ শে এপ্রিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ লোকসভা আসনের ভোট। কিন্তু এবার এই আসনে লড়াইয়ে ময়দান থেকে শুরু করে প্রচারে ও ব্রাত্য থেকে গেল দাশমুন্সি পরিবার। অর্থাৎ দিপা দাস মুন্সী একদিকে যেমন এই কেন্দ্র থেকে দল তাকে টিকিট দেয়নি তেমনি দলীয় টিকিট যিনি পেয়েছেন বাম কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে সেই আলী ইমরান রামজ এর প্রচারে ও কোথাও দেখা মিলছে না দীপা দাশমুন্সি কে তার হয়ে প্রচারে সময় দিতে। যদিও বা কয়েকদিন আগে জটিকা সফরে এসে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে একটিমাত্র মিটিং করেই তিনি চলে যান দিল্লি। তারপর থেকে আর তার দেখা নেই। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে তোমার দেখা নেই রে, তোমার দেখা নেই।
উল্লেখ্য রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে একটা সময় প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সি জয়লাভ করে সাংসদ হয়েছিলেন যেমন তেমনি তিনি মন্ত্রীয় থাকেন ভারত সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রকের। এরপর প্রিয়রঞ্জন দাস মুন্সির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী দীপা দাস মুন্সি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার তিনি জয়ী হয়ে যান। এবং পরবর্তীতে ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীও হন। কিন্তু তারপরের বার তিনি হেরে যান। তবে
এর পর এবারে তিনি রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হননি। তার বদলে এবার রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন গোয়ালপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক আলী ইমরান রামজ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে প্রতিবারই যেভাবে ভোটের সময় দীপা দাশমুন্সী কে দেখা যায় মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে এবার তিনি কেন সেই সব থেকে বিরত থেকে গেলেন বিশেষ করে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে?। যদিও কংগ্রেস প্রার্থী আলী ইমরান রামজ এর সাফাই দিয়ে বলেন দীপা দাশমুন্সি হলেন এ আইসিসির মেম্বার এবং সিডব্লিউসি একজন সক্রিয় সদস্য। সেই সুবাদে দল তাকে অন্য রাজ্যে প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই তিনি এখানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবুও তার মধ্যে একদিন এসেছিলেন জেলা কংগ্রেস কার্যালয় এ। সেখানেই জেলা কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্লকের কর্মীদেরকে নিয়ে বৈঠক করে গেছেন। দীপা দাশমুন্সি বার্তা দিয়েছেন এই মিটিংয়ে যে এবার যেমন করেই হোক রায়গঞ্জ লোকসভা আসনটি কংগ্রেসকে পুনরায় উদ্ধার করতেই হবে।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন দীপা দাশমুন্সি সর্বভারতীয় নেত্রী। তাই দল তাকে বিশেষভাবে অন্যান্য রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়ায় এখানে প্রচার করতে তিনি আসতে পারেননি। যদিও জেলার অনেক কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নিচু তালার কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে একটু মতবিরোধ রয়েছে। তার কারণ কর্মীরা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন একেতেই কংগ্রেসের অবস্থা খুব একটা ভালো জায়গায় নেই তার উপর যদি দীপা দাশমুন্সির মতন একজন নেতৃত্ব প্রচারে না থাকে তাহলে ভোটটা যেন তাদের কাছে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। দুই এক দিন এখানে এসে প্রচার করতেও পারতেন তিনি এবং তাতে কর্মী সমর্থকদের মন অনেকটাই চাঙ্গা হতো।
এদিকে এই প্রতিবেদক এ ব্যাপারে দীপা দাশমুন্সি কে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।
তবে যাই হোক না কেন ভোট উৎসবের বাংলায় এবার দীপা দাস মুন্সী যে অনেকটাই ব্রাত্র থেকে গেলেন তা নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে।